রূপসী বাংলার কবি জীবনান্দের শহর বরিশাল ভ্রমন

by Admin
November 06, 2020
0

রূপসী বাংলার কবি  জীবনান্দের শহর  বরিশাল ভ্রমন

 

যে অপার অকৃত্রিম প্রাকতিক সৌন্দর্য বরিশাল বহন করে তার কাছে জীবনান্দের মত আপনাকেও ফিরে যেতে হবে বারবার।নদীমাতৃক বাংলার প্রকৃত স্বরূপ  পাওয়া যাবে আদতে বরিশালে ইংরেজিতে আপনি যাকে বলতে পারেন র বিউটি বা নিখাদ সুন্দর বলা হয়ে থাকে ,ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল।নদী আধিক্যের কারণে বাংলার ভ্যানিস খ্যাত এই বরিশাল হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক ঘুরে আসার জন্য অনন্য পছন্দ

 

বরিশালের পূর্ববর্তি নাম চন্দ্রদ্বীপ।গাঙ্গের অববাহিকার জেলা থেকে বিভাগীয় শহরে রূপ প্রায় দুশ বছরের পুরনো।আপনি যদি শিল্প সাহিত্যের সমাজদার হন তাহলে ভালো লাগবে কেননা শহরের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে গল্প।আর আপনি যদি কেবল প্রকতিপ্রেমীও হয়ে থাকেন তাও বরিশাল আপনাকে স্বাগতম জানাবে তার জল আর সবুজের অপার সাম্রাজ্যে

 

বরিশালের দর্শণীয় স্থানঃ

 

.সাতলাঃ

লতা-পাত-গুল্ম আর শাপলা ফুলে মোড়ানো এক বিস্তৃত ভুমির নাম সাতলা।গ্রামের নাম সাতলা হলেও জায়গাটি শাপলা বিল নামে পরিচিত।বরিশাল জেলা শহর থেকে মাত্র ৬০ কিলো দূরেই অবস্থিত প্রাকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টি শাপলা গ্রাম সাতলাগোটা উত্তর সাতলা গ্রামের প্রায় পঞ্চাশ হাজার একর জমি জুড়েই শাপলার চাষ হয়  এলাকার সত্তর ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এর চাষ  বিপননের সাথে সংযুক্ত।ঠিক কবে থেকে এখানে শাপলার চাষ শুরু হয়  বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য নেই।প্রায় সব রং এর শাপলা জন্মালেও লাল শাপলার আধিক্যের অন্য রিং চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।আগস্ট থেকে অক্টোবর এই তিনমাসই শাপলার ভরা মৌসুম।সাতলা বিলের প্রকৃত সৌন্দর্য দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভোরে পৌছাতে হবে,কেননা বেলা বাড়ার সাথে সাথে শাপলা বুজে যায়।আপনি চাইলে এক-দুইরাত স্থানীয় গ্রামটিতে থেকে আসতে পারেন।সাতলায় থাকার জন্য যদিও কোনো হোটেল মোটেল গড়ে উঠে নি এখনো তাই আপনি চাইলে স্থানীয় দের অতিথি(পেয়িং গেইস্টহয়ে থাকতে পারেন এই এক-দুদিন।এখানকার মানুষের আতিথিয়েতার বেশ সুনাম আছে!

 

 

.ভাসমান পেয়ারা বাগান/পেয়ারা বাজারঃ

 

শুধু দেশেরই নয় উপমহাদেশের সবচে বড় ফ্লোটিং মার্কেট বাংলার ভ্যানিস খ্যাত বরিশালের ভিমরুলি,আটঘর ,কুড়িয়ানা।পেয়ারা আমড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পণ্যের বাজারও দেখতে  পাবেন এখনেসবুজে ঘেরা এক টুকরা ভাসমান স্বর্গরাজ্যের সাথেই কেবল তুলনা চলে এই ভাসমান পেয়ারা বাজারের।তিন খালের মোহনায় সারি সারি নৌকায় ক্রেতা বিক্রেতার অংশগ্রহনে ঐতিহ্যবাহী  অনন্য বাজার দেখাও যেনো কোনো উৎসবের অংশগ্রহণের কম নয়।এই ভাসমান পেয়ারা বাজার আপনাকে মনে করিয়ে দিতে পারে থাইল্যান্ডের ফ্লোটিং মার্কেটের কথা ও।জুলাই থেকে থেকে সেপ্টেম্বর এই সময়টুকুকে পেয়ারার ভরা মৌসুম ধরা হয়।এ সময় কয়েকশ কোটি টাকার পেয়ারা কেনা-বেচা হয় এখানে।চাষিরা জমি লিজ নিয়ে পেয়ারা চাষ করেন এবং এই বাজারের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে পেয়ারা পেড়ে সারাদেশের পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন পর্যটকেরা চাইলে পেয়ারা বাজার হয়ে পেয়ারা বাগানও ঘুরে আসতে পারেনপেয়ারা বাগান থেকে পেয়ারা আনতে মানা তবে আপনি বাগান ঘুরে দেখতে পারবেন এবং ইচ্ছেমত পেয়ারা খেতে পারবেন।

 

 

.বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন চার্চঃ

 

ইতিহাস এবং পুরাকৃতির প্রতি যদি আপনি আগ্রহী হন তাহলে যেতে পারেন বরিশাল শহর থেকে খুব কাছে অবস্থিত বরিশাল অক্সফোর্ড মিশন চার্চে।বরিশালের ইতিহাস  ঐতিয্যের সাথে এই স্থাপনার সম্পর্ক পুরোনো স্থানীয়দের কাছে চার্চটি এফিফ্যানি গির্জা নামে পরিচিত।শতবর্ষী পুরোনো এই গির্জা নির্মাণে অনুসরণ করা হয়েছে গ্রিক স্থাপত্য।এটি এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গির্জা।এশিয়ার সবচেয়ে বড় গির্জধ্বনিটি এই গির্জায় অবস্থিত যা প্রতিদিন প্রার্থনার সময় বেজে উঠে।লাল  ইটের তৈরী বলে অনেকে এটিকে লাল গির্জাও বলেযেহেতু ধর্মীয় প্রার্থনালয়তাই কেবল অনুমতি সাপেক্ষেই ভেতরে যেতে পারবেন নিরাপত্তা জনিত কারণে একদম গির্জার ভিতরে যা যেতে যদি না ও পারেন  বাইরে থেকে এটি দেখে আসার সুযোগও মিস করা ঠিক হবে না

 

 

.কুয়াকাটাঃ

 

বরিশাল থেকে ঘন্টা দেড়েকের দূরত্বে অবস্থিত সাগর কন্য কুয়াকাটা।আয়তনে ১৮ কিমি দৈর্ঘ্যের এই সমুদ্র সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রতীক।এটি বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয়  সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়সাগরকন্যায় কুয়াকাটা গেলে সমুদ্রের অপার জলরাশি ছাড়াও দেখতে পাবেন লাল কাঁকড়া দ্বীপ/ক্র্যাব আইল্যান্ড,গঙ্গমতির জঙ্গল,যাতরার বন,শুঁটকি পল্লী,লেবু বন,কুয়াকাটার কুয়া,বৌদ্ধ  মন্দির  অন্যান্য দর্শনীয় স্থানমজার বিষয় হচ্ছে পরো দ্বীপটিই আপনাকে ঘুরে দেখতে হবে মোটর সাইকেলে।সময় লাগবে দুদিনের মতোন ।পর্যটন এলাকা হিসেবে কুয়াকাটায় বেশ কিছু ভালো হোটেল মোটেল রয়েছে।তাই বরিশাল থেকে কুয়াকাটা গিয়ে আপনি ধীরেসুস্থে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

 

.গুটিয়া জামে মসজিদঃ

 

এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ এই গুটিয়া জামে মসজিদ,যা বহুতল আমান মসজিদ নামেও পরিচিত।বরিশাল বিভাগের উজিরপুর থানার গুটিয়া বিভাগে অবস্থিত১৪ একর জমির উপরে এই মসজিদ টি নির্মান করা হয় ২০০৩ সালে এস সান্টু এটি নির্মান করেনদুপুর ১২ টার পর থেকে মসজিদ প্রাঙ্গন ঘুরে দেখতে পারেন।২০ হাজার লোকের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঈদগাহ ময়দান,পুকুর লেন,পার্কিং,এতিমখানাবো বাগান রয়েছে আরো দেখবার জন্য

 

.দূর্গাসাগর দীঘি,মাধবপাশা,বাবুগঞ্জ,বরিশাল

 

যে সৌন্দর্য ইতিহাসের কথা বলে,প্রেম  প্রশান্তি কথা বলে তার সাথে কেবল বরিশালের মাঠবপাশার ঐতিহ্যবাহী দূর্গাসাগর দীঘির তুলনা চলে।বরিশাল শহর থেকে ১২ কিমি দূরে  দীঘির অবস্থান।বাংলার বারোভুঁইয়াদের বিস্তৃত এলাকা নিয়ে দীঘীর অবস্থান।১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের রাজা শিব নারায়ণ তার স্ত্রী রাণী দূর্গা দেবীর প্রতি ভালোবায়ায়ার স্বরূপে তৈরি করেন  দীঘি,যা আজ এত হাজার বছর পরেও ভালোবাসা  সৌন্দর্যের অপার নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত

 

. কবি জীবনান্দ দাসের বাসভবন ও পাঠাগারঃ
কবি জীবনান্দ দাসের বাসভবন  পাঠাগার কাছাকাছি অক্সফোর্ড মিশন চার্চের কাছাকাছি কবির স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়ি আর পাশেই রয়েছে পাঠাগারসত্য বলতে আপনি এখানে গেলে নিরাশ হতে পারেন।রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে কবির বাড়ি ,ধলেশ্বরী নদী সমস্ত ই যেন কেবল থাকার জন্য থাকা।তবে আপনি যদি উপরের বাদবাকি জায়গাগুলি দেখেন আপনার বুঝতে একদম ই কষ্ট হবেনা কেন কবি বারবার এখানে ফিরতে চেয়েছেন।

 

উপরক্ত জায়গাগুলি ছাড়াও বরিশালে রয়েছে বেশ কিছু পার্ক (মুক্তিযোদ্ধা পার্ক,বেলস বংগবন্ধুউদ্যান)আরও কিছু  বিখ্যাত দিঘী ,বধ্যভূমি ৩০ গোডাউন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়,বিএম কলেজ।

ঢাকা থেকে বরিশালের দীর্ঘ জার্নি টি খুব অল্প সময়ে নিশ্চিন্তে সেরে ফেলতে পারেন বিমানে।সর্বোচ্চ সতকর্তা নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে ৩৫% সিট ফাঁকা রেখে বাংলাদেশের বিমান কোম্পানীগুলি নিশ্চিত করছে আপনার স্বাস্থসুরক্ষা ,খেয়াল রাখছে স্বাচ্ছন্দ ও আরামের।স্বল্প সময়ে বিমান যাত্রাটি সুন্দর ,নিরবিচ্ছিন্ন ও নিরাপদে সেরে নেয়ার জন্য দুটি ফ্লাইটের বর্তমান সময়সূচি  ও আনুমানিক ভাড়া দেয়া হলো ।মনে রাখবেন বিমানের ভাড়া নিয়মিত পরিবর্তনশীল।

বিমান টিকেট কাটারকথা এলেই অনেকেই দ্বিধায় থাকেন কি কি না জানি লাগে।অভ্যন্তরিন ফ্লাইটে জন্য জরুরি কাগজ বলতে লাগছে আপনার ভোটার আইডির ফটোকপি,বিমানভাড়া আর আপনার ইচ্ছে।বাকি দায়িত্বগুলি কোম্পানির।আরেকটি কথা মনে রাখবেন,বিমানের উড্ডয়নের সিডিউল ও ভাড়া  আবহাওয়া,জরুরী অবস্থা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে পরিবর্তন হতে পারে।এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান কোম্পানির সিদ্ধান্ত ই শেষ সিদ্ধান্ত ।

নভোএয়ার  প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট চালায় ঢাকাথেকে বরিশাল বরিশাল থেকে ঢাকা ।আসা যাবার ক্ষেত্রে তাঁদের ভাড়া শুরু হয় ২৯৯৯ থেকে ৮২০০ (ক্লাসভেদে)

ফ্লাইটের সময়সূচি

DHAKA – BARISAL

 

Flight No   Departure     Arrival   Days of Operation

 

VQ995     9:30        10:10   Daily

VQ997     15:30       16:10    Daily

 

BARISAL – DHAKA

 

Flight No    Departure     Arrival    Days of Operation

 

VQ996      10:40       11:20     Daily

VQ998      16:40       17:20     Daiy

 

ইউ এস বাংলার ভাড়া একই দুরত্বে ২৬৯৯ থেকে ৬০০০(ক্লাস ভেদে)

তাঁদের ফ্লাইটের সময়সূচি ঃ

 

DHAKA – BARISAL

 

Flight No   Departure     Arrival   Days of Operation

BS 171        11.30AM               12.10PM            Daily

BS 173         4.00 PM              04.40.PM            Daily

Review

by

“ Indigo Flight review“

I didn't provide meal on board

by

“ I will go to kolkata next year“

I think it will luxury travel of our Family